জাপানীজদের প্লানিং দেখে আবারও অবাক হতে হল!

যদি আমাকে জাপানীজদের কোন বৈশিষ্ট সমন্ধে বলতে বলেন, তবে আমি তাদের এই প্লানিং বা কর্মপরিকল্পনাকা করার পদ্ধতি তুলে ধরব। যে কোন কিছু করবার আগে তারা ভালো মতন প্লান করবে এবং তার জন্য ঘটা করে সবাই মিলে বেশ কয়েকবার মিটিং করবে। তারপরেই তারপর তারা মূল কাজে নামবে। অনেক আগে যখন এই দেশে ছাত্র ছিলাম তখন পার্টটাইম করার সুবাদে তাদের এই গুনটি রপ্ত করতে পেরেছিলাম।

তবে জাপানীজদের আগে আমাকে সবথেকে বেশী নাড়া দিয়েছিল আমার খালু, যিনি পেশায় একজন সিভিল ইঞ্চিনিয়ার ছিলেন। যে কোন কাজ করবার আগে তিনি ডাইরিতে কি কি করবেন তা গুছিয়ে লিখে নিতেন এবং তারপরেই তিনি কাজে নামতেন। কিছু বছর আগে তিনি গত হয়েছেন। তবে কিছুদিন আগে গ্রামের বাসায় বেড়াতে যেয়ে তার পুরান ডাইরিগুলি পড়লাম। গ্রামের ছোটখাট মিটিং এর আগে তিনি এজেন্ডাগুলি লিখে রাখতেন এবং মিটিং এর পরে তার সারাংশ (কর্পোরেট কালচারে যাকে মিটিং মিনিটস বলে) সুন্দর করে গুছিয়ে লিখে রাখতেন। সেগুলি দেখে চোখে পানি এসে গিয়েছিল। তবে সেই গুনটি তার কাছে রপ্ত করে, তা প্রয়োগ করেছিলাম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রদের সাথে যে কোন মিটিং শেষ করে ইমেইলে আমাকে মিটিং এর সারমর্ম পাঠানো ছিলো বাধ্যতামূলক। আমার ছাত্রদের জীবন কিছুটা অতিষ্ঠ করেছিলাম বৈ কি।

একটু অন্যপ্রসংগে চলে গিয়েছিলাম, মূল প্রসংগে আসা যাক।

জাপানিজদের এই প্লান করবার একটি উদাহরণ দেয়া যাক:

কিছুদিন আগে আমার ল্যাবের রুম পরিবর্তন হবে। পুরাতন রুম থেকে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নতুন রুমে নিতে হবে। প্রথমদিন এই সংক্রান্ত মিটিং হল। আমার সহকর্মী দেখি আগে থেকেই হোমওয়ার্ক করে এনেছে। নতুন রুমের লে আউট এবং কোথায় কোন যন্ত্রটি থাকবে তা ম্যাপ করে দেখান। তারপরে আরেকদিন মূল কাজ হল, তিনি বুঝিয়ে বললেন কোথায় কোনটি যাবে। সমস্যা হল কিছু কিছু যন্ত্র অনেক বড় যা আমাদের পক্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তা একটি কম্পানিকে দিয়ে করান হবে। কোন কম্পানিকে দিয়ে করান হবে তা অনেক আগেই ঠিক করা ছিল, সেজন্য বাজেট কোথা থেকে আসবে, কি কি নিয়ে যাবে সব কিছু আগেই নির্ধারণ করা ছিল। আমাদের যেটা করতে হল, তা হল বড় বড় যন্ত্রগূলির গায়ে স্টিকার লাগাতে হলো, যেখানে লিখা আছে কোথায় কোন জায়গায় রাখতে হবে। এত প্রোসেস কেন? জাপানের জনসংখ্যা কম এবং সাধারণ লেবারের খরচ অনেক বেশী।

ম্যাপে দেখানো হয়েছে কোথায় কোন যন্ত্রটি বসবে

যন্ত্রের গায়ে সিল লাগানো

আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করি। আমরা যে এপার্টমেন্ট গুলিতে থাকি তা মুলত বিশ্ববিদ্যালয়ের এপার্টমেন্ট। অনেকটা হোটেলের মতই থাকতে হয়। কিছুদিন পর তারা আমাদের বেডশিট বালিশ ইত্যাদি পরিবর্তন করে। কিছুদিন আগে আমি চিঠি পেলাম যে আমাদের বাসারগুলি পরিবর্তন হবে। সন্ধ্যা বেলায় বাসায় যেয়ে শুনি, আমার গিন্নি তাদের গুনগান করছে। যেভাবে করিৎকর্মা এবং ভাল প্লান করে তারা এসেছে যে তা দেখে গিন্নী একেবারেক অবাক। দরজা খুলে অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করল এবং সাথে সাথেই রবোটের মত ঝটপট সব গুছিয়ে নিয়ে আবার নতুন বেডশিট লাগিয়ে দিল।

Leave a Reply

*

Get Adobe Flash playerPlugin by wpburn.com wordpress themes
Improve Your Life, Go The myEASY Way™