যদিও আমরা বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছিলাম। তারপরেও এই সংক্রান্ত আমাদের আইডিয়াগুলির সাথে ড. ইউনুসের আইডিয়া ও লক্ষ্যগুলি সমন্বয় করার জন্য আমরা ড. ইউনুসের সাথে ১৪ই মে ২০০৮ তারিখে দেখা করি। যেহেতু ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে এটিই প্রথম মিটিং ছিল তাই তারা খুবই আগ্রহী ছিল। মিটিংটিতে আমরা কোন আইডিয়া বা প্রোপজাল নিয়ে যায়নি। মূলত brainstorming (বাংলা অনুবাদ করলে কি হবে?) মিটিং ছিল। বেশ কিছু তথ্য আমরা পেলাম।
- বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রটি অনেক বড়। ড. ইউনুসকে জিজ্ঞাস করেছিলাম স্বাস্থ্যসেবার কোন ক্ষেত্রটি বেশী চ্যালেঞ্জিং হিসাবে দেখেন? তিনি বললেন শিশুর স্বাস্থ্য সেবা ও গর্ভবতী মা’র স্বাস্থ্য সেবা। গ্রামীন অনেকদিন ধরেই গ্রামের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করছে। ড. ইউনুস বলছিলেন যে গ্রামীণ এর বিভিন্ন সার্ভে তে দেখা গেছে, এবং উনার কাজ করতে করতে শিখতে পেরেছিলেন যে এই দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক বেশী পিছিয়ে রয়েছে। বড়দের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে গুরুত্ব দেয়া হলেও এই দুটি ক্ষেত্র এখনও অবহেলিত।
- রাতুল টেলিসেন্টার এর আইডিয়া এর কথা বললে ড. ইউনুস জানালেন যে গ্রামীন অনেক আগে এই নিয়ে কাজ করেছে। BARDEM ও গ্রামীন টেলিকম একটি প্রোজেক্ট করেছিল যেখানে ফরিদপুরের একটি গ্রামের সাথে বারডেমের মধ্যে ভিডিও সংযোগ ছিল এবং রোগীরা সেখানে বসেই ঢাকার ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে পারতো। কিন্তু ড. ইউনুস জানালের যে এই সেটআপটি এখনও আছে কিন্তু পুরো আইডিয়াটি কাজ করেনি।
- আমাদেরকে উনি ইনটেলের কাজি এমদাদের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন। (পরবর্তিতে আর ফলোআপ করা হয়নি)
- ড. ইউনুস আমাদের বললেন, খুব সাধারণ কিছু তৈরী করা যায় কিনা।
- কি কি রোগ নিয়ে কাজ করা যায়, এই ব্যাপারে আমি প্রশ্ন করেছিলাম। ড. ইউনুস বললেন আমাদের অফিস ডা. বাকি আছেন এবং তিনি একটি হোমওয়ার্ক করেছিলেন কোন কোন রোগগুলি আমাদের বেশী হয় তার উপর। এই পর্যায়ে এসে লামিয়া আপা বললেন পরে তিনি ইমেইলে আমাদের রোগগুলি লিস্ট করে পাঠাবেন। ড. ইউনুস তখন বললেন ডা. বাকি তো এই অফিসেই আছে, তাকে ডাকুন। একটু পরেই ডাক্তার বাকি আমাদের সাথে যোগ দিলেন এবং তিনি জানালেন যে নিম্নের রোগগুলির গুরুত্ব আমাদের দেশে বেশী। (ড. ইউনুস সাথে সাথেই যে ডা. বাকি কে ডাকলেন তাতেই বুঝলাম যে উনি কাজ পরে ঝুলে রাখবেন তা নয় যতটুকু সম্ভব কাজ এগিয়ে রাখার মানুষ তিনি। পরবর্তিতে অনেক বড় বড় ম্যানেজারের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং আমি দেখেছি ভাল ম্যানেজারদের একটি গুন হল কাজকে এগিয়ে রাখা, পরে কিছু করব তা নয়। ড. ইউনুসের এই গুণটি আমাকে খুব অনুপ্রানিত করল)।
- পেপটিক আলসার
- এনেমিয়া বা অপুষ্টি
- চোখের রোগ
- হজমতন্ত্রের রোগ
- ডাইরিয়া
সেদিন আলোচনার করে আমরা বুঝলাম যে আমাদের খুব সহজ মডেল নিয়ে এগুতে হবে। সেদিন যে আলোচনা করলাম তার সারাংশ পরে ড. ইউনুসকে পাঠিয়ে দিলাম।
আমার খাতার নোটটি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
স্বাস্থ্য সেবার আইডিয়া এর পাশাপাশি ওয়েবসাইটের কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ড. ইউনুস নিজে ব্লগ লিখার আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন। আমি তাকে উৎসাহ দিই। কিন্তু পরবর্তিতে অনেক চেষ্টা করেও ড. ইউনুসকে ব্লগ লিখাতে পারিনি। আমার মানে হয় লামিয়া আপাও অনেক চেষ্টা করেছিলেন। আসলে ড. ইউনুস খুব ব্যস্ত বলেই হয়ত লেখার সময় পাননি। ড. ইউনুসের সাথে কাজ করে আমার মনে হয়েছে, আমাদের বাংলাদেশের অনেক সেক্টর নিয়েই উনি কাজ করেছেন এবং উনার অনেক প্রোজেক্টগুলি আমাদের অনেকের অজানা। উনি যদি এগুলি ডকুমেন্ট করে রাখতেন তাহলে এই ব্যাপারে যারা কাজ করেন তাদের অনেক উপকার হোত।
এই সময় ড. ইউনুসের সাইটের ডিজাইন পরিবর্তন নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম। ড. ইউনুস একটি প্রতিযোগীতা আয়োজন করা যায় কিনা যেখানে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা ডিজাইন তৈরীতে অংশ নিবে। আমরা এমন একটি ওয়েবডিজাইন প্রতিযোগীতার ব্যাপারও কথা বললাম।
Tags: Bangladesh, e-healtchare, nsu, student, yunus
