আজকে আমরা কিছু বিজ্ঞানীরা গবেষনা কাজ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এমন সময় বেশ কয়েকটি উক্তি আমার সহকর্মীরা করলেন, যেগুলি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি।
- একজন টেকনিশিয়ান খুব সহজেই যন্ত্র তৈরী করতে পারেন। কিন্তু সেই যন্ত্র কি কাজে ব্যবহার হবে, কি ডিজাইন হবে তা বিজ্ঞানীদের কাজ, এবং সেটি বের করা বৈজ্ঞানিকদের জন্য খুব কঠিন।
- বায়োলজি কি? কোষ কিংবা জীব বিজ্ঞান বুঝতে পারছেন না? যদি পদার্থবিদ্যা এর সাথে রসায়নবিদ্যা কে সংযুক্ত করা হয় এবং সেই সাথে জীবন দেয়া যায় তবে তাই হবে জীববিদ্যা।
পরে বিজ্ঞানীদের নামগুলো উল্লেখ করবো।
আপনারা সবাই কেমন ঈদ করলেন? গত দুইবছর বাংলাদেশে ঈদ পালন করে বন্ধু পরিজন নিয়ে ঈদে অভ্যাস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এবার অনেকদিন পরে প্রবাসে ঈদ পালন করলাম। তবে এবার একটু ব্যাতিক্রম হল নামাজে যেয়ে ভালমত চোখে পড়ার মত লোকজনের সল্পতা।
আমার শহরের পাশের শহরের একটি স্থানীয় মসজিদে যেয়ে নামাজ পড়লাম। মসজিদ বলা হলেও তাতে কোন সাইনবোর্ড নেই কিংবা কোন মিনার নেই। আমেরিকাতে মুসলমানদের এতটা চুপিচুপি ভাব দেখতে পায়নি। সখানে মিনার শহ মসজিদের সংখ্যা জাপানের তুলনায় অনেক বেশী। এটিই প্রমান করে যে জাপানে মুসলমনারা এখানে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবেই বেচে আছে। আনেক পরিচিত বাংলাদেশীরা এখানে ছুটি না নিয়েই ঈদ জাপন করেছে। সেই তুলনায় আমেরিকায় বাংলাদেশীদের অবস্থা অনেকটাই ভাল। যেহেতু বাংলাদেশ আমেরিকা ও জাপানে দীর্ঘদিন ছিলাম তাই এই তুলনাতেই চলে এলাম।
যেটি বলছিলাম এর আগে নামাজ পড়তে যেয়ে অবশ্যই যায়নামাজটি নিতে হতো, কেননা ভীড়ের চোটে রাস্তাতেই পড়তে হতো। কিন্তু এইবার দেখলাম, তিন তলা মসজিদের দ্বিতীয় তলাতেই অর্ধেক মুসল্লী। যেহেতু সমজিদটি শ্রীলংকার লোকজন চালায় তারা তামিল ভাষাতেই খুতবা দিল। আমার মনে হয়েছে এটি ইংরেজীতে বা জাপানীজে দিতে পারতো, যেহেতু মুসল্লীরা এই ভাষাদুটি বুঝতে পারবে।
এত মুসল্লীর সংখ্যা কম কেন? তা নিয়ে খটকা লাগলো। মসজিদের পাশেই একটি বাংলাদশী হালাল খাবারের দোকান দিয়েছেন। তার সাথে কথা বলেই বুঝতে পারলাম আসল রহস্যটি কি। আসলে গত দুই বছর ধরে জাপান সরকার প্রায় সমস্ত অবৈধদের জাপান থেকে বের করে দিয়েছে। যেহেতু এই সমস্ত মসজিদে অবৈধ ভাবে থাকা মুসল্লীরাই সংখ্যায় বেশী ছিল, তাদের অনুপস্থিতে মসজিদ একদম শন্য।
এই সমসজিদে আমি প্রায় ৬ বছর পরে নামাপ পড়লাম। অনেক দোকানপাট পরিবর্তন হয়ে গেছে কিন্তু মসজিদটি তেমনই থেকে গেছে।
বাসায় ফিরে দেখি আমার ছোট দুই ছেলে নতুন কাপড় চোপড় পড়ে ফিটফাট। ওরা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছে আজকের দিনটি বিশেষ। চোখে মুখে খুশির তারা জ্বলছে। দেখে মনে হল, আমরাও ছেলেবেলায় এইভাবে ঈদ পালন করতাম। দিনটি মানেই ছিল ঝলমলে একটি খুশির দিন।
বৌ বাচ্চাদের নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশীদের বাসায় ঘুরে বেশ সুন্দর কেটে ফেললাম। তবে আনন্দটি নিজের থেকে ছেলেমেয়েদের দেখেই বেশী আনন্দ পেলাম।
আপনারা অনেকেই জানেন হয়তো যে আমার মূল গবেষনার বিষয়বস্তু হল বায়োসেন্সর তৈরী করা। এতদিন পর্যন্ত খুব একটা বায়ো জাতীয় জিনিসপত্র অর্থাৎ কোষ, DNA, স্নায়ু নিয়ে সরাসরি কাজ করতে হয়নি। আমেরিকায় কাজ করবার সময় আমার সহকর্মী সেগুলি নিয়ে কাজ করতো আর আমি ইলেকট্রনিক্স এর বিষয়টি দেখতাম। সরাসরি কাজ না করতে হলেও সেগুলি নিয়ে ধারণা ছিল। কিন্তু এইবার বেশ সমস্যায় পড়লাম। জাপানে বর্তমান গবেষনাতে সরাসরি কোষ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বর্তমানে আমি HEG নামে একটি পরিচিত কোষ নিয়ে কাজ করছি। কোষগুলি কিভাবে একে অপরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করে তার মূল রহস্যটি উদঘাটন করাই আমার মূল লক্ষ্য। এতদিন পর্যন্ত সিলিকন বা এই সংক্যান্ত পদার্থ ব্যবহার করেছি। ফলে যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই তৈরী করতে পেরেছি। আর এই বিষয়ে প্রযুক্তিগুলি অনেকটাই স্ট্যাবলিশড। কিন্তু কোষ নিয়ে কাজ করার সময় দেখছি যেভাবে চাচ্ছি সেভাবে হচ্ছেনা। অনেকটা কোষের উপর ভরসা করেই চলতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার সমস্যা হল গত সপ্তাহে কোষগুলি দেখি মরে গেল। যে ইনকুবেটরে কোষগুলিকে লালনপালন করছিলাম, সেখানে ছত্রাক (বা ছাতা পড়ে যাওয়া) হয়ে গিয়েছিল।
তবে দুশ্চিন্তায় আছি। সামনে নিউরোন নিয়ে কাজ করতে হবে। আর তা আরো বেশী সংবেদনশীল।
কিভাবে কোষ যোগাযোগ করে। আমরা কম্পিউটার বা মোবাইলে যেভাবে ইলেক্টনিক্স এর মাধ্যমে যোগাযোগ করি, কোষ বা নিউরোনে অনেকটা সেরকমই যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। তবে তা বায়োলজিক্যাল। ইলেকট্রনিক্সের পরিবর্তে সে রাসয়নিক পদার্থকে পাঠিয়ে সিগনাল হিসাবে ব্যবহার করে। সাধারণত আমরা সেগুলিকে বলি চ্যানেল। কোষগুলি ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ইত্যাদি সিগনাল ব্যবহার করে। আমি একটি ডিভাইস তৈরী করছি যেটি দিয়ে কোষগুলির এই যোগাযোগ ব্যবস্থা বুঝা যাবে। আমি নতুন কিছু করছিনা, এটি ২০ বছরে আগে এটি আবিষ্কৃত পদ্ধতি।তবে সাধরনত বিজ্ঞানীরা patch clamp নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। আর আমি চেষ্টা করছি সিলিকন ডিভাইস দিয়ে তা পড়া সম্ভব কিনা।
প্রথম দিকে কম্পিউটারের ডেস্টটপ ভিত্তিক সলিউশন নিয়ে আমরা মাতামাতি করেছি। তারপর এসেছে ওয়েব ভিত্তিক সলিউশন, যেখানে ওয়েবসাইটে সব কাজ করা যাবে। আলাদা করে সফটওয়্যার ইন্সটল করার প্রয়োজন নেই। এই যুগটাকে আমরা বলি ওয়েব২.০।
কিন্তু এখন যে নতুন যুগের শুরু হয়েছে তা হল মোবাইল সলিউশন। আমি ধারণা করছি যে তা আরো ১৫ বছরের মত হৈ চৈ ফেলবে।
ওয়েবভিত্তিক সলিউশন দিয়ে ব্যাবসা হয়েছে। তবে তার বেশীরভাগই হয়েছে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। উদাহরন হিসাবে আমি দিব মিবো (http://meebo.com)। মিবো এর মাধ্যমে আপনি কোন সফট ইন্সটল না করেই ইস্টারনেট ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে অনলাইনে থাকা আপনার ইয়াহু কিংবা অন্যান্য IE সার্ভিসের সাথে চ্যাট করতে পারবেন। এটি একটি ওয়েব ২.০ এর উদাহরণ। আমরা এই ধরনের সিস্টেমকে ওয়েবসলিউশন বলি। কিন্তু মিবো তার অর্থ উপার্জন করে বিজ্ঞাপনের মধ্যমে।
সামনে মোবাইল সলিউশন যে নতুন দিগন্ত উন্মোচর করবে তার কিছু কারণ হল:
- মোবাইল ব্যবহরকারীর সংখ্যা বাড়ছে।
- মোবাইল ফোন কম্পিউটারের মতনই স্মার্ট হচ্ছে।
- মোবইল প্লাটফর্ম এর সংখ্যা বাড়ছে।
মোবাইল সলিউশন যদিও সামনে আরো বিশাল ব্যবাসার ক্ষেত্র হবে। তবে এর শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ এর দিকে। ফিনল্যান্ডে Radiolinja নামে একটি কম্পানির রিংটোন এর ডাউনলোড সার্ভিসের মাধ্যমে। বাংলাদেশে যদিও রিংটন নিয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তবে সামনে আরো বাড়বে। মোবাইল ফোনের গেম নিয়ে ২০০৭ সনে ব্যবসা হয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার। মোবাইল ফোনকে বলা হয় ৪র্থ স্ক্রীণ।
- ১ম: সিনেমা
- ২য়: টিভি
- ৩য়ৱ কম্পিউটার স্ক্রীণ
- ৪র্থ: মোবাইলের স্ক্রীণ
আমি মোবাইল সলিউশন বলতে যেগুলি বুঝাচ্ছি তা হল;
- মোবাইল ফোনের জন্য গেইম
- মোবাইল ফোনর জন্য কনটেন্ট: খবর, গান, তথ্য
- মোবইল ফোনের জন্য সফটওয়্যার: এডিটর, ভিডিও প্লেয়ার, হিসাব নিকাশের সলিউশন
যেভাবে মোবাইল ফোনের সলিউশন দিয়ে অর্থ উপার্জন বা ব্যবসা তৈরী করা যায়
- মোবাইল সলিউশন সরাসরি তৈরী করে তা বিক্রী করা: আইফোন, এড্রয়েট, উইন্ডোজ মোবাইল কিংবা সিম্বিয়ানের জন্য সলিউশন তেরী করা এবং অনলাইনেই বিক্রি করা।
- মোবাইল মিডিয়া তৈরী করা: রিংটন, গান কিংবা ভিডিও।
- মোবাইলের সলিউশন ফ্রি হিসাবে তৈরী করা কিন্তু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপাজর্ন করা।
- মোবাইল ওয়েবসাইট: সাধারণ ওয়েবসাইটগুলিকে মোবাইলের জন্য রূপান্তর করে দেয়ার সার্ভিস।
আপনারা কি মনে করে মোবাইল ফোনের ভবিষ্যত নিয়ে? মতামত লিখুন
রেফারেন্স লিংক:
আপনারা কমবেশি বাংলাদেশের নির্বাচনের সাথে পরিচিত। আজকে আপনাদের বাংলাদেশ নয়, জাপানের নির্বাচনের সাথে পরিচয় করে দিব। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের ছবি আর পোষ্টারে গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের বাড়ি দোকানপাট সবকিছুতেই শোভা পায়। এবং বাংলাদেশে সেটাই একটি স্বাভাবিক চিত্র।তবে তত্বাবধায়ক সরকার এসে রাজনীতির লোকজনকে এমন একটা ল্যাঙ্গ মারলো যে আমাদের রাজনীতির নেতা ও চ্যালারা সাবধান হয়েগেছে। গত কিছু নির্বাচনে যত্রতত্র ছবি দেখা যায়নি। তবে রাস্তার উপরে নেতারা বান্দরের মত ঝুলে ছিলেন।
জাপানে নির্বাচনের আগে শহরের ওয়ার্ড থেকে রাস্তার মোড়ে একটি নির্ধারিত স্থানে বোর্ড লাগিয়ে দেয় এবং নির্বাচন প্রার্থীরা সেখানে তাদের পোস্টার লাগিয়ে দেয়। আমার শহের তেমন একটি পোস্টারের বোর্ড ও প্রার্থীর ছবি দিলাম। এই বোর্ডে ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই নারী। নির্বাচনে পোস্টার নিশ্চয় একটি জাতির পরিচয় বহন করে। কোন পোস্টারেই কিন্তু মূল দলের নেতা নেত্রীর কোন ছবি নেই। একদম ডানের মহিলা (ইয়াকুসিজি সান) তার তিনটি পরিচয়, শিক্ষিকা, ডাক্তার ও মা – এই তিনটির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।



নিজের মনস্কামনা পূরনের জন্য বিভিন্ন সমাজের মানুষদের মধ্য বিভিন্ন ধরণের রীতি রয়েছে। একে অন্যভাবে দেখার কোন প্রয়োজন নেই। একটি দেশের রীতি অন্যদেশে তা রীতিমত অবাক চোখে দেখবে। কিছুদিন আগে গামাগোড়ি নামে একটি জায়গায় বেড়াতে গিয়েছি। তখন যাত্রাপথে দেখা মিলল একটি গাছের যেখানে অনেকগুলি কাগজ ঝুলছিল। গিন্নী বলল, এই গাছটিতে দেখ কত কাগজ দিয়ে তা সাজিয়েছে। তখন বুঝিয়ে বললাম যে, এটি কোন সাজান নয়। এই গাছটিতে বিভিন্ন মানুষেরা তাদের মনস্কামনা লিখে রেখেছে এবং জাপানীজদের ধারণা এইভাবে পাতায় লিখলে তাদের মনের আশা পূর্ণ হবে। তবে সব গাছেই লিখে রাখে তা নয়। সাধারণত মন্দিরের গাছে এইভাবে পাতায় লিখে রাখার প্রচলন দেখা যায়। তবে মন্দিরের গুলিতে মন্দির থেকেই একটি পাতা বিক্রি (মন্দিরের একস্ট্রা ইনকাম) করা হয় তাতে লিখতে হয়। তবে এই গাছটি সেইরকম মন্দির নয়। একটি গ্রামের বৈঠকখানা। সেখানে হয়তো কোন ইভেন্ট ছিল এবং বাচ্চারা মনে হয় কাগজ দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরী করেছে এবং তা লিখেছে।
গিন্নী জিজ্ঞাস করল, কি লিখেছে। একটিতে পড়ে দেখলাম লিখা আছে, নিরাপদ রাস্তা চায়। গিন্নী উত্তরে বলল, এত নিরাপদ শহর তারপরেও, এদের বাংলাদেশে পাঠানো উচিত।
গল্পে বলছিলাম, গামাগোড়ি যাবার কথা। এটি আমার একটি প্রিয় জায়গা। সমুদ্রতট টি সত্যিই সুন্দর। তবে এটি মূলত শামুক চাষ হয়। এবং নিশ্চয় জানেন যে জাপানীজরা শামুক খেতে খুব পছন্দ করে। আমার গিন্নী শামুকের কথা শুনে, সাগড় পাড়ে কিছুক্ষণ ঘুরল। যদি মুক্তা পাওয়া যায়।







বাংলাদেশের রাস্তা মেরামত সমন্ধে তো আপনারা মোটামুটি অভিজ্ঞ রয়েছেন। কেউ একজন বলেছিল যে, ঢাকা হল খোঁড়াখুড়ি এর শহর। এবার আমি আপনাদের জাপানের অভিজ্ঞতাটা বলি। একদিন বিকালে অফিস থেকে ফিরছি, তখন দেখি গেটের বাহিরে রাস্তা খোঁড়া চলছে। খুব সম্ভবত পাশের একটি বাসা তৈরী হচ্ছে, তারই কোন সুয়েরেজ এর লাইন হবে। তবে বাংলাদেশের মত অনেকজন মিলে খোঁড়াখুড়ি চলছে তা কিন্তু না। যন্ত্র দিয়েই সব কাজ সারছে। আমি ভাবলাম দেখাই যাক এরা কিভাবে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি করে। পরেরদিন সকালে যেয়ে অবাক, আমি খোঁড়াখুড়ি এর কোন চিহ্নই সেখানে দেখতে পেলাম না। কিভাবে গর্ত করল কিভাবে পিচ দিয়ে তা ভরাট করল তার কিছুই দেখতে পেলাম না। খুব অফসোস হচ্ছে, এত দ্রুত তারা কাজ সারে!
রাস্তা খননের কাজ শুরু হয়েছে (বিকালে)
পরের দিনের সকালের ছবি।
জাপানীজদের প্লানিং দেখে আবারও অবাক হতে হল!
যদি আমাকে জাপানীজদের কোন বৈশিষ্ট সমন্ধে বলতে বলেন, তবে আমি তাদের এই প্লানিং বা কর্মপরিকল্পনাকা করার পদ্ধতি তুলে ধরব। যে কোন কিছু করবার আগে তারা ভালো মতন প্লান করবে এবং তার জন্য ঘটা করে সবাই মিলে বেশ কয়েকবার মিটিং করবে। তারপরেই তারপর তারা মূল কাজে নামবে। অনেক আগে যখন এই দেশে ছাত্র ছিলাম তখন পার্টটাইম করার সুবাদে তাদের এই গুনটি রপ্ত করতে পেরেছিলাম।
তবে জাপানীজদের আগে আমাকে সবথেকে বেশী নাড়া দিয়েছিল আমার খালু, যিনি পেশায় একজন সিভিল ইঞ্চিনিয়ার ছিলেন। যে কোন কাজ করবার আগে তিনি ডাইরিতে কি কি করবেন তা গুছিয়ে লিখে নিতেন এবং তারপরেই তিনি কাজে নামতেন। কিছু বছর আগে তিনি গত হয়েছেন। তবে কিছুদিন আগে গ্রামের বাসায় বেড়াতে যেয়ে তার পুরান ডাইরিগুলি পড়লাম। গ্রামের ছোটখাট মিটিং এর আগে তিনি এজেন্ডাগুলি লিখে রাখতেন এবং মিটিং এর পরে তার সারাংশ (কর্পোরেট কালচারে যাকে মিটিং মিনিটস বলে) সুন্দর করে গুছিয়ে লিখে রাখতেন। সেগুলি দেখে চোখে পানি এসে গিয়েছিল। তবে সেই গুনটি তার কাছে রপ্ত করে, তা প্রয়োগ করেছিলাম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রদের সাথে যে কোন মিটিং শেষ করে ইমেইলে আমাকে মিটিং এর সারমর্ম পাঠানো ছিলো বাধ্যতামূলক। আমার ছাত্রদের জীবন কিছুটা অতিষ্ঠ করেছিলাম বৈ কি।
একটু অন্যপ্রসংগে চলে গিয়েছিলাম, মূল প্রসংগে আসা যাক।
জাপানিজদের এই প্লান করবার একটি উদাহরণ দেয়া যাক:
কিছুদিন আগে আমার ল্যাবের রুম পরিবর্তন হবে। পুরাতন রুম থেকে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নতুন রুমে নিতে হবে। প্রথমদিন এই সংক্রান্ত মিটিং হল। আমার সহকর্মী দেখি আগে থেকেই হোমওয়ার্ক করে এনেছে। নতুন রুমের লে আউট এবং কোথায় কোন যন্ত্রটি থাকবে তা ম্যাপ করে দেখান। তারপরে আরেকদিন মূল কাজ হল, তিনি বুঝিয়ে বললেন কোথায় কোনটি যাবে। সমস্যা হল কিছু কিছু যন্ত্র অনেক বড় যা আমাদের পক্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তা একটি কম্পানিকে দিয়ে করান হবে। কোন কম্পানিকে দিয়ে করান হবে তা অনেক আগেই ঠিক করা ছিল, সেজন্য বাজেট কোথা থেকে আসবে, কি কি নিয়ে যাবে সব কিছু আগেই নির্ধারণ করা ছিল। আমাদের যেটা করতে হল, তা হল বড় বড় যন্ত্রগূলির গায়ে স্টিকার লাগাতে হলো, যেখানে লিখা আছে কোথায় কোন জায়গায় রাখতে হবে। এত প্রোসেস কেন? জাপানের জনসংখ্যা কম এবং সাধারণ লেবারের খরচ অনেক বেশী।
ম্যাপে দেখানো হয়েছে কোথায় কোন যন্ত্রটি বসবে
যন্ত্রের গায়ে সিল লাগানো
আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করি। আমরা যে এপার্টমেন্ট গুলিতে থাকি তা মুলত বিশ্ববিদ্যালয়ের এপার্টমেন্ট। অনেকটা হোটেলের মতই থাকতে হয়। কিছুদিন পর তারা আমাদের বেডশিট বালিশ ইত্যাদি পরিবর্তন করে। কিছুদিন আগে আমি চিঠি পেলাম যে আমাদের বাসারগুলি পরিবর্তন হবে। সন্ধ্যা বেলায় বাসায় যেয়ে শুনি, আমার গিন্নি তাদের গুনগান করছে। যেভাবে করিৎকর্মা এবং ভাল প্লান করে তারা এসেছে যে তা দেখে গিন্নী একেবারেক অবাক। দরজা খুলে অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করল এবং সাথে সাথেই রবোটের মত ঝটপট সব গুছিয়ে নিয়ে আবার নতুন বেডশিট লাগিয়ে দিল।
আমার ছোট ছেলেটি (মাশরাফি, বয়স ১ বছর ৪ মাস) অল্প অল্প করে কথা বলতে শিখেছে। তবে কথা বার্তা এক অক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। সব কিছুকেই সংক্ষিপ্ত রূপ করে তা একটি অক্ষরে রূপান্তর করছে। আম্মা বলতে বলিলে, সে বলে ‘মা’। আজকে সকালে আমি আমার রুমে বসে টুকটাক কাজ সারছিলাম, তখন রান্নাঘর থেকে শুনলাম, গিন্নী বলছে বাবাকে বলো চা হয়ে গেছে খেতে আসো। টুকটুক করে মাশরাফি আমার রুমে এসে বলল, বা — চা —। মানে হল, বাবা চা।
শুনে মনে হল, এত সুখ ধরে রাখব কিভাবে?








Recent Comments